
মোঃ রাজিব জোয়ার্দ্দার, পাবনা।
পাবনার ফরিদপুরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর ১২ রোগীর ক্ষতস্থানে যক্ষ্মা শনাক্তের ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য বিভাগ। ক্ষত শুকাতে বিলম্ব হওয়া রোগীদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পাশাপাশি তাঁদের চিকিৎসার আওতায় আনা হয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য কারণ চিহ্নিত করে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে অপারেশন থিয়েটারের কার্যক্রম বন্ধ রেখে জীবাণুমুক্তকরণসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ফরিদপুর উপজেলার খলিশাদহ মহল্লার লিমনের স্ত্রী লিমা খাতুন প্রায় চার মাস আগে আল-মদিনা ল্যাব অ্যান্ড হাসপাতালে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেন। পরবর্তী সময়ে তাঁর অস্ত্রোপচারের ক্ষত শুকাতে বিলম্ব হলে চিকিৎসকের পরামর্শে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় ক্ষতস্থানে যক্ষ্মা শনাক্ত হয়। বিষয়টি জানার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা করে এবং চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, একই সময়ে অস্ত্রোপচার করা ১১ রোগীর ক্ষত শুকাতেও বিলম্ব হয়। তাঁদের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলে ক্ষতস্থানে যক্ষ্মা শনাক্ত হয়। বর্তমানে আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন। রোগীদের চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সহযোগিতা করছে বলেও জানানো হয়েছে।
ঘটনাটি নজরে আসার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জীবাণুমুক্তকরণ ও অন্যান্য স্বাস্থ্য-নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে একাধিক রোগীর ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতির কারণ কী, তা খতিয়ে দেখতে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকেও তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আল-মদিনা ল্যাব অ্যান্ড হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ রানা বলেন, রোগীদের ক্ষত শুকাতে বিলম্বের বিষয়টি চিকিৎসকের নজরে আসার পর দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরীক্ষায় যক্ষ্মা শনাক্ত হওয়ার পর রোগীদের সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি অপারেশন থিয়েটারের কার্যক্রম বন্ধ রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, একাধিক রোগীর ক্ষেত্রে একই ধরনের জটিলতার কারণ নির্ণয় গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য প্রয়োজনীয় নমুনা ও তথ্য সংগ্রহ করে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী করণীয় ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে।
একসঙ্গে কয়েকজন রোগীর চিকিৎসা-পরবর্তী জটিলতা দেখা দিলেও দ্রুত শনাক্তকরণ, রোগীদের চিকিৎসার আওতায় আনা এবং অপারেশন থিয়েটারের কার্যক্রম বন্ধ রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিরাপদ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য।
প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে মানুষের চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে। ফরিদপুর উপজেলায় স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির একটি ভালো গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় পর্যালোচনা ও ব্যবস্থা গ্রহণ করে হলে জানান জেলা সিভিল সার্জন,তিনি আরও জানান সব ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিশ্চিতভাবে দূর করা গেলে প্রতিষ্ঠানটি যেন পুনরায় স্বাভাবিকভাবে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম চালু করতে পারে, সে বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি।
Leave a Reply