
কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুরে দারিদ্র্য বিমোচন ও মানব উন্নয়নে সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্টের (সিজেডএম) জীবিকা মোহনগঞ্জ-১ ও কোদালকাটি প্রকল্পের দ্বিতীয় দফার তহবিল হস্তান্তর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) চর রাজিবপুর উপজেলা অডিটোরিয়ামে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দুই প্রকল্পের মুস্তাহিক পরিবারের মাঝে এ তহবিল হস্তান্তর করা হয়।
সিজেডএম সূত্রে জানা যায়, জীবিকা উন্নয়ন কেন্দ্র মোহনগঞ্জ-১ প্রকল্পের দ্বিতীয় দফায় ৪৮৮টি মুস্তাহিক পরিবারের জন্য ৬৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং জীবিকা উন্নয়ন কেন্দ্র কোদালকাটি প্রকল্পের দ্বিতীয় দফায় ৪৮৮টি পরিবারের জন্য ৬৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দুই প্রকল্পে মোট ৯৭৬টি পরিবারের মাঝে ১ কোটি ৩০ লাখ ৮০ হাজার টাকার যাকাত তহবিল হস্তান্তর করা হয়।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সিজেডএমের উত্তর-পূর্ব এলাকার এরিয়া ম্যানেজার মো. আব্দুর রউফ। শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন সিজেডএমের প্রধান কার্যালয় থেকে আগত জীবিকা বিভাগের ম্যানেজার হাফেজ মো. একরামুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জীবিকা মোহনগঞ্জ-১ প্রকল্পের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর মো. জাকির হোসাইন। প্রকল্পের কার্যক্রম নিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন জীবিকা কোদালকাটি প্রকল্পের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর মো. লিয়াকত আলী।
পরে দুই প্রকল্পের সদস্যরা তাঁদের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি তুলে ধরেন। এ সময় বক্তব্য দেন মনিরা পারভীন, শিরিনা বেগম, আফরোজা বেগম, আফসানা আক্তার ও রিনা আক্তার। তাঁরা প্রকল্পের মাধ্যমে তাঁদের জীবনমান উন্নয়নের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
সদস্যদের অভিজ্ঞতা শোনার পর রাজিবপুর এলাকার চারটি জীবিকা প্রকল্পের সামগ্রিক কার্যক্রম তুলে ধরেন সিজেডএমের উত্তর-পূর্ব এলাকার এরিয়া ম্যানেজার মো. আব্দুর রউফ।
অনুষ্ঠানে সিজেডএমের জীবিকা প্রকল্পের গুরুত্ব ও প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেন সিজেডএমের হেড অব অপারেশন কাজী আহম্মেদ ফারুক। তিনি বলেন, ২০০৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত সিজেডএম প্রায় ১৭ লাখ মানুষকে বিভিন্ন ধরনের সেবা দিয়ে আসছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চর রাজিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সায়েকুল হাসান খান। তিনি সিজেডএম ও জীবিকা প্রকল্পের কার্যক্রমের প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে জীবিকা উন্নয়ন কেন্দ্র মোহনগঞ্জ-১ প্রকল্পের ১৭টি দলের ১৭ জন নেত্রীর হাতে দ্বিতীয় তহবিলের চেক এবং জীবিকা উন্নয়ন কেন্দ্র কোদালকাটি প্রকল্পের ১৬টি দলের ১৬ জন নেত্রীর হাতে দ্বিতীয় তহবিলের চেক হস্তান্তর করা হয়।
সিজেডএমের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দারিদ্র্য বিমোচনের পাশাপাশি সদস্যদের টেকসই জীবিকা নিশ্চিত ও জীবনমান উন্নয়নে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।