
পঞ্চগড়ের প্রবীণ রাজনীতিবিদ, গণমানুষের নেতা, পঞ্চগড় পৌরসভার পাঁচবারের নির্বাচিত সাবেক মেয়র, পঞ্চগড় জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, পঞ্চগড় পৌর বিএনপির আহ্বায়ক এবং পঞ্চগড় জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব মো. তৌহিদুল ইসলামের ইন্তেকালে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী, পঞ্চগড় জেলা বিএনপির সম্মানিত সদস্য সচিব এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি।
রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬ রাত আনুমানিক ১০টায় ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় আলহাজ্ব মো. তৌহিদুল ইসলাম ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।মৃত্যুর সংবাদ শুনেই তাৎক্ষণিক মরহুমকে দেখতে ও শোকার্ত পরিবারকে শান্তনা জানাতে হাসপাতালে ছুটে গিয়েছিলেন প্রতিমন্ত্রী মহোদয়।
এক শোকবার্তায় পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আলহাজ্ব মো. তৌহিদুল ইসলাম ছিলেন পঞ্চগড়ের রাজনৈতিক অঙ্গনের একজন প্রবীণ, ত্যাগী, সাহসী ও জনসম্পৃক্ত নেতা। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির আদর্শ, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তিনি দীর্ঘদিন অত্যন্ত নিষ্ঠা, সাহস ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন। দলের দুঃসময়ে তিনি নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছেন এবং পঞ্চগড় জেলা বিএনপিকে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।”
তিনি আরও বলেন, “পঞ্চগড় জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং পঞ্চগড় পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে তাঁর সাংগঠনিক ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখা, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করা এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা পঞ্চগড় বিএনপির ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসা তাঁকে সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের কাছে একজন গ্রহণযোগ্য ও জনপ্রিয় নেতায় পরিণত করেছিল।
আলহাজ্ব ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি বলেন, “জনপ্রতিনিধি হিসেবেও তৌহিদুল ইসলাম ছিলেন অত্যন্ত সফল। পঞ্চগড় পৌরসভার মেয়র হিসেবে পাঁচবার জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হওয়া তাঁর জনপ্রিয়তা, গ্রহণযোগ্যতা এবং মানুষের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল প্রমাণ। পৌরবাসীর সেবা, এলাকার উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণে তাঁর দীর্ঘদিনের অবদান পঞ্চগড়বাসী শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
তৌহিদুল ইসলাম আমার কাছে শুধু একজন প্রবীণ রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ছিলেন না; তিনি ছিলেন আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মানুষ, বড় ভাই, বিশ্বস্ত সহকর্মী ও আপনজন। রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন সংকট, সংগ্রাম ও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাঁর পরামর্শ, সহযোগিতা, আন্তরিকতা ও ভালোবাসা আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করব। তাঁর চলে যাওয়া আমার জন্য ব্যক্তিগতভাবেও অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
তিনি বলেন, “আলহাজ্ব মো. তৌহিদুল ইসলামের মৃত্যুতে পঞ্চগড় জেলা বিএনপি একজন অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত নেতাকে হারাল। একই সঙ্গে পঞ্চগড়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে যে শূন্যতার সৃষ্টি হলো, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, দলের প্রতি আনুগত্য, সাংগঠনিক অবদান, জনসেবা ও মানুষের ভালোবাসায় অর্জিত গ্রহণযোগ্যতা তাঁকে পঞ্চগড়ের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্মরণীয় করে রাখবে।
পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করেন, আল্লাহ যেন তাঁর জীবনের সকল ভুলত্রুটি ক্ষমা করে তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মাকাম দান করেন।
তিনি মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং সর্বস্তরের নেতাকর্মীর প্রতি গভীর সমবেদনা ও আন্তরিক সহমর্মিতা জ্ঞাপন করেন।