
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের অনুমোদন পেলেই যেকোনো সময় নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। নতুন কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক বা সেক্রেটারি পদে আলোচনায় থাকা নেতাদের তালিকায় জোরালোভাবে উঠে এসেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম আক্তার শুভর নাম।
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার সীমান্তঘেঁষা প্রত্যন্ত এলাকা থেকে উঠে আসা শামীম আক্তার শুভ দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয়। বিগত সরকারের সময়ে হামলা-মামলা, পুলিশি হয়রানি ও নির্যাতনের মুখেও রাজপথে সক্রিয় থাকার কারণে ত্যাগী ও পরীক্ষিত ছাত্রনেতা হিসেবে সংগঠনের মাঠপর্যায়ে তার পরিচিতি রয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণআন্দোলনের সময়ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীর রাজপথে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সংগঠিত করতে সক্রিয় ছিলেন শুভ। একই সময়ে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পুলিশের গুলির মুখে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে শহীদ হন আবু সাঈদ। তার আত্মত্যাগে উত্তরবঙ্গের ছাত্র-জনতার আন্দোলন নতুন গতি পায়।
শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগের পর উত্তরবঙ্গের ছাত্ররাজনীতিতে নতুন নেতৃত্বের প্রত্যাশা আরও জোরালো হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্বে উত্তরবঙ্গের প্রতিনিধিত্ব না থাকার বিষয়টিও সামনে আনছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
দলীয় ও মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের ভাষ্য, প্রায় ৩৫ বছর আগে রুহুল কবির রিজভী ও হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের পর উত্তরবঙ্গ থেকে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের শীর্ষ নেতৃত্বে উল্লেখযোগ্য কোনো নেতা উঠে আসেননি। দীর্ঘ এই নেতৃত্বের ঘাটতির কারণে উত্তরবঙ্গের নেতাকর্মীদের মধ্যে মূল্যায়ন না পাওয়ার ক্ষোভ রয়েছে।
তাদের মতে, শামীম আক্তার শুভ দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে হামলা, মামলা ও নির্যাতনের মুখোমুখি হলেও তিনি সংগঠনের কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়াননি। ফলে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক পদে তাকে বিবেচনা করা হলে তা উত্তরবঙ্গের তৃণমূল নেতাকর্মীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতিফলন হবে।
ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক পরীক্ষিত ছাত্রনেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত কারা দায়িত্ব পাচ্ছেন, তা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে।
উত্তরবঙ্গের তৃণমূল নেতাকর্মীরা বলছেন, শহীদ আবু সাঈদের রক্তে যে উত্তরবঙ্গ নতুন করে জেগে উঠেছে, সেই অঞ্চলের একজন ত্যাগী ও পরীক্ষিত ছাত্রনেতাকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নেতৃত্বে মূল্যায়ন করা এখন সময়ের দাবি। তাদের প্রত্যাশা, সীমান্ত জনপদ রৌমারী থেকে উঠে আসা শামীম আক্তার শুভর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের নেতৃত্বের ঘাটতি পূরণ হবে।