পাবনা প্রতিনিধি
পাবনা পিটিআই সুপারিনটেনডেন্ট শারমিন সুলতানার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি অর্থ লোপাট, নানাবিধ অনিয়ম, দূর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে।
গত বছর মার্চে যোগদানের পর থেকেই বিভিন্ন ফান্ডে জমাকৃত অর্থ আত্বসাৎ করার মিশনে নেমেছেন।
নিজেই বিভিন্ন দোকান থেকে ভাউচার (ক্যাশ মেমো) সংগ্রহ করে ভুয়া বিল প্রস্তুত করে নিজ অফিসের অজান্তেই ট্রেজারীতে দাখিল করে অর্থ হাতিয়ে নেন।
প্রতি বছরে রাজস্ব ও পিইডিপি-৪ খাতে বরাদ্দকৃত মনোহারী দ্রব্যাদী ক্রয় ১ লাখ, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ১ লাখ, কম্পিউটার মেরামত সরঞ্জাম ক্রয়ে রাজস্ব ও পিইডিপি ৩ লাখ, পানি বিশুদ্ধকরন ও পয়োনিষ্কাশন ১ লাখ, স্ট্যাম্প প্যাড সিল ৮ হাজার, ব্যবহার্য দ্রবাদি ১০ হাজার (যেমন পর্দা, কাপ পিরিচ থালাবাসন ইত্যাদী) পেলেও এসকল খাতে দৃশ্যমান কোনো কাজ ও কেনাকাটা করেন না এবং স্টক রেজিস্ট্রারেও এন্ট্রি নাই।
জানুয়ারী-অক্টোবর' ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের ৮৫ জন প্রশিক্ষনাথীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা হারে ৪২৫০০ টাকা আদায় হলেও বাবুর্চিদের বেতন ও গ্যাস বিল পরিশোধ করেনি। চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের সাথে দূর্ব্যবহার করেন।
বিশ্বস্থ সুত্রে জানা যায়, পরিসংখ্যান বিভাগসহ বিভিন্ন দপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা কর্মচারীরা বিভিন্ন প্রশিক্ষণে এসে পিটিআই কক্ষ ব্যবহার, পুরুষ ও মহিলা হোস্টেলে অবস্থান ও রাত্রি যাপন বাবদ জন প্রতি বেড ভাড়া ২০০ টাকা হারে আদায়কৃত প্রায় ২ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে নিজেই আত্বসাৎ করেছেন। সুপার তাঁর নির্ধারিত কোয়াটারে বসবাস না করে ক্ষমতার অপব্যবহার করে পিটিআই এসি গেষ্ট রুমে অবস্থান ও রাত্রি যাপন করেন। বিধিমতে তিনি সুপার কোয়াটারের জন্য মাসিক ভাড়া কর্তন করেন না, এমনকি গেষ্ট রুমে অবস্থান করলেও প্রতিদিনের ভাড়া ৩০০ টাকা হারে সরকারি কোষাগারে জমা দেন না। তিনি পিটিআই প্রশাসনিক ভবনের পশ্চিম পাশে ট্যাংকির পাশে মেহগুনী গাছ একক সিদ্ধান্তে নাইট গার্ডের সহযোগিতায় বিক্রি করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
পিটিআইতে অনুষ্ঠিত ৭দিন ব্যাপী প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশগ্রহনকারী প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষনে অংশ নেওয়া ৩২জন শিক্ষক হোস্টেলে অবস্থান না করলেও আবাসন ভাতা বাবদ জনপ্রতি ১৪০০ টাকা হারে ৪৪৮০০ টাকা কেটে নিয়ে আত্বসাৎ করেন।
এই প্রশিক্ষণে খাবার ভাতা ৩৭৮০০ টাকা আত্বসাতের পায়তারা করলেও প্রশিক্ষনার্থীদের চাপের মুখে ২দিন পর ফেরত দিতে বাধ্য হয় সেই টাকা।
পিইডিপি-৪ এর আওতায় গাড়ীর তেল বাবদ বিধি লঙ্ঘন করে জুলাই-অক্টোবর চার মাসে অতিরিক্ত ব্যয় দেখিয়ে ৯৪৯১৪ টাকা বিল তুলে নেন। এছাড়াও ২৫ জুন তারিখে কাটাকাটি তিনটি ট্রেজারী চেকের মাধ্যমে তেল বিল বাবদ আরো ২৭৭৫০ টাকা তুলে নেন। অবৈধভাবে উত্তোলিত বিল লগ বইতে এন্ট্রি করেন নাই।
কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভর্তি ফরম বিক্রয়, সেশন ফি আদায়ের বিধান না থাকলেও
পরীক্ষণ বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণিত ভর্তি ফরম ১০০ টাকা হারে ৬৫০০ টাকা এবং সেসন ফি বাবদ ৬০০ হারে ১লক্ষ ৬৪ হাজার টাকা আদায় করেন।
সুপার তার অধিনস্থদের আতঙ্কের মধ্যে রাখতে ইতিপূর্বে সহকারী সুপার রবিউল ইসলাম, অফিস স্টাফ মোকসেদুল আলমের বিরুদ্ধে থানায় জিডি করেন এবং পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের ৫জন শিক্ষককে ৩১ ডিসেম্বর অহেতুক কারন দর্শানো নোটিশ দিয়ে হয়রানী করেন।
পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক ও সুপারের যৌথ একাউন্টে জমাকৃত অর্থ সুপারের একক নামীয় হিসাবে জমা না দেওয়ায় ৬/১/২০২৬ তারিখে উক্ত শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেন নতুন দায়িত্বরত শিক্ষককে চাপ প্রয়োগ ও ভয়ভীতি দেখিয়ে আদায়কৃত অর্থ একক নামীয় হিসাবে জমা দিতে বাধ্য করেন এবং সাদা চেকে স্বাক্ষর নিয়ে একাউন্টে থাকা টাকা উত্তোলন করে নেন।
অর্থ আত্বসাতের অসৎ উদ্দেশ্যে ভর্তিসহ সকল কাজ ভর্তিসহ কাজ ও অর্থ ৫/১/২০২৫ তারিখ নোটিশের মাধ্যমে প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় ১০২ নং কক্ষে ( কম্পিউটার অপারেটর সোহেলের নিকট) জমা দিতে নির্দেশ দেন।
বিভিন্ন প্রয়োজনে শিক্ষার্থীর অভিভাবকেরা প্রত্যয়ন পত্র আনতে গিয়ে দিনের পর দিন ঘুরায়ে থাকেন বলে অভিযোগ অভিভাবকদের।
পরীক্ষণ বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণিতে মাত্র ২৫ জন শিশু লটারীতে ভর্তি নেন। ক্যাচমেন্ট এলাকার অভিভাবকেরা তাদের সন্তানকে ভর্তি করাতে গেলে ভর্তি না নিয়ে দূর্ব্যবহার করেন। অশালীন আচরনের অভিযোগ তুলে নাইটগার্ড মোফাজ্জলকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেন।
এবিষয়ে অভিযুক্ত সুপারের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান এই সুপার দীর্ঘদিন ধরে নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে নানা ধরনের অপকর্ম করে আসছে কেউ কিছু বললে চাকরীতে হয়রানি করা সহ নানা সমস্যা সৃষ্টি করে।